নবউদ্ভাবিত হোমিওপ্যাথিক ইমিউনোমডুলেশন পদ্ধতির ব্যাখ্যা

নবউদ্ভাবিত হোমিওপ্যাথিক ইমিউনোমডুলেশন পদ্ধতির ব্যাখ্যা

নানা কারণে মানুষের দেহে রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই কারণগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে দেহকে রোগমুক্ত রাখার জন্য একটি অতিসূক্ষ্ম রক্ষীবাহিনী দেহের ভিতর অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে, যাদেরকে আমরা শ্বেতকণিকা বলে জানি। দেহের অস্থিমজ্জার ভিতর ঐ শ্বেতকণিকার জন্ম হয়ে থাকে। নানাবিধ জটিল প্রক্রিয়ার দ্বারা ঐ রক্ষীবাহিনী মানবদেহকে অবাঞ্চিত বহিরাগত বিষাক্ত উপাদান থেকে মুক্ত রাখে। যার ফলে আমরা সুস্থ থাকি। কিন্তু অনেক সময় ঐ বাহিনী বিষাক্ত উপাদানকে সঠিকভাবে চিনতে ভুল করে। যার ফলে মানবদেহের আভ্যন্তরীণ পরিবেশ দূষিত হয়ে যায়। ঐ দূষণের ফলে দেহের যন্ত্রগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তখনই আমাদের দেহে নানাপ্রকার কষ্টের সৃষ্টি হয় যাকে আমরা রোগ বলে আখ্যায়িত করে থাকি। ঐ সময় দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বাইরে থেকে সাহায্য করতে হয় যার দ্বারা রক্ষীবাহিনী বাহিরাগত বিষাক্ত উপাদানগুলোকে চিহ্নিত করে তাদেরকে দেহ থেকে বহিষ্কৃত করতে পারে। এর ফলে দেহ বিষমুক্ত হয়ে রোগমুক্ত হয়।যে বিদ্যা এই জটিল ব্যাপারটি নিয়ে গবেষণা করে থাকে তারই নাম ইমিউনোলজি বা রোগপ্রতিরোধ বিদ্যা।
কিন্তু অতীব দুঃখজনক যে, ঐ কাজটি সঠিকভাবে করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রায় ব্যর্থ হয়ে গিয়েছেন। ফলে তারা দেহকে বিষমুক্ত করার প্রচেষ্টা ত্যাগ করে দেহকে রোগকষ্ট থেকে মুক্ত রাখার পথ বেছে নেন। এভাবে বর্তমানে প্রচলিত প্রায় সকল ওষুধই দেহের রোগকষ্ট নিবারণ করে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখছে। এই চিকিত্সার ফলে মানবদেহ ধীরে ধীরে বিষের আধারে পরিণত হচ্ছে। যার ফলে দেহের আভ্যন্তরীণ প্রতিটি যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এর পরিণতিতে আরো জটিল রোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে যেগুলো দমন করার জন্য আরো শক্তিশালী ওষুধ প্রয়োগ করা হয় কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত দু’একটি যন্ত্রকে কেটে বাদ দেওয়া হয়। এতেও যদি রোগকষ্টকে কমানো সম্ভব না হয় তাহলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে অকার্যকর করার উপযোগী স্টেরয়েড বা হরমন জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ার নাম হচ্ছে ইমিউনোসাপ্রেশন বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অবদমন।
এই অবস্থার সুযোগে অধিকতর শক্তিশালী ভাইরাসসমুহ দেহে প্রবেশ করে দেহকোষের ডি, এন, এ’র মিউটেশন বা চরিত্রের পরিবর্তন সাধন করে জন্ম দেয় ক্যান্সার কোষ। এভাবে একটি দুষ্টচক্র (ভিসিয়াস সার্কল) দেহে প্রতিষ্ঠা লাভ করে যা মানুষকে অবধারিত মৃত্তুর দিকে ঠেলে দেয়। বিশ্বের সর্বত্র আজ আমরা এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি দেখতে পাই। এর বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা সাইটোকাইন নামক একধরণের উপাদান আবিষ্কার করেছেন যার কাজ হচ্ছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ বা ইমিউনোমডুলেশন।
কিন্তু কার্যতঃ মানবদেহে প্রয়োগ করতে গিয়ে এর দ্বারা কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং এর দ্বারাও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অবদমন হতে দেখা গিয়েছে। চিকিত্সা বিজ্ঞানীদের এই বাধা মানবজাতির জন্য একটি মারাত্মক অভিশাপ বয়ে নিয়ে এসেছে। যে আবিষ্কার মানবজাতিকে ডায়াবিটিস, ক্যান্সার ইত্যাদি জটিল রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারত, সেই সুযোগ প্রায় নাগালের মধ্যে এসেও হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। যার ফলে দেহকে বিষমুক্ত করার পরিবর্তে প্রচলিত অবদমনের পথই চালু রয়েছে।
বিষয়টি দীর্ঘদিন যাবত পর্যবেক্ষণ করার পর আমরা এর বিকল্প একটি পথের অনুসন্ধান করতে শুরু করি। যার ফলে আমরা একটি বিকল্প পদ্ধতির সন্ধান লাভ করি । হোমিওপ্যাথিতে কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে আমরা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে রোগের তীব্রতা অনুসারে প্রয়োজন মতো বাড়িয়ে কিংবা কমিয়ে দেহকে বিষমুক্ত করে রোগমুক্ত করতে পারি। চিকিত্সা বিজ্ঞানের ভাষায় আমাদের গবেষণালব্ধ এই প্রক্রিয়ার নাম হোমিওপ্যাথিক ইমিউনোমডুলেশন বলে আখ্যায়িত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s