মানবদেহে রোগের প্রকারভেদ

মানবদেহে যত রকম রোগের সৃষ্টি হয় তাদেরকে প্রধানতঃ দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়, যথা-
(ক) ইনফেকশাস বা সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ এবং
(খ) নন-ইনফেকশাস বা অসংক্রামক রোগ
প্রথমোক্ত রোগের জন্ম হয় জীবাণু এবং ভাইরাস দ্বারা, তাই ঐ সকল রোগ একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আসলে এই রোগ ছড়ানোর সঙ্গে মানুষের দেহের ইমিউন সিস্টেম বা ‘রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা’ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে । মানব দেহের বাইরে অসংখ্য রোগজীবাণু বিচরণ করছে, কিন্তু তারা ইচ্ছা করলেই মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারছেনা । এই বাধাই মানুষকে নানাবিধ রোগ থেকে বাঁচিয়ে রাখছে । কিন্তু বিশেষ কতগুলো অবস্থায় মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে ঐ সকল রোগজীবাণু মানুষের দেহে ঢুকে পড়ে । তখন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে । এসব হচ্ছে সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগের কথা, যেমন- কলেরা, বসন্ত, যক্ষ্মা, টাইফয়েড, হাম, পোলিও, ডায়ারিয়া, ইনফুয়েঞ্জা ইত্যাদি ।
এছাড়া রয়েছে অসংখ্য রোগ যেগুলো নন-ইনফেকশাস বা অসংক্রামক শ্রেণীভূক্ত, যেমন- মাথাব্যাথা, বাত, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মানসিক রোগ, ক্যান্সার ইত্যাদি । এসব রোগের সৃষ্টির কারণ বেশ জটিল, যেগুলো নিয়ে আমরা পরবর্তীতে বিশদ আলোচনা করব । এবার দেখা যাক উপরোক্ত দু’ধরনের রোগকে মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিভাবে প্রতিহত করে থাকে ।

রোগ ও নিরাময়ের প্রক্রিয়ার আধুনিক ব্যাখ্যা

আধূনিক বিজ্ঞানের মতে রোগকে সংক্রামক এবং অসংক্রামক এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। সংক্রামক রোগের কারণ হচ্ছে জীবন্ত জীবাণূ এবং ভাইরাস। অসংক্রামক রোগের কারণ হচ্ছে জীবাণূ দ্বারা সৃষ্ট প্রাণহীন বিষাক্ত উপাদান যার নাম টক্সিন বা রোগবিষ। জীবিত অবস্থায় জীবাণু এবং ভাইরাস যে বিষ নিঃসরণ করে তার নাম এক্সোটক্সিন এবং মৃতু্র পর জীবাণু এবং ভাইরাস এর দেহ থেকে যে বিষ নিঃসৃত হয় তার নাম এন্ডোটক্সিন। জীবন্ত জীবাণুকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। একশ্রেণীর জীবাণু মানবদেহে রোগের সৃষ্টি করে যার নাম প্যাথোজেনেটিক ব্যাকটেরিয়া। আর এক শ্রেণীর জীবাণু মানবদেহের উপকার সাধন করে, যাদের নাম নন-প্যাথোজেনেটিক বা ফ্রেন্ডলি ফ্লোরা, এরা হচ্ছে বন্ধু জীবাণূ। প্রথমোক্ত শ্রেণীর জীবাণূরা টক্সিন বা রোগবিষ তৈরী করে মানবদহকে বিষে ভারাক্রান্ত করে অসুস্থ করে ফেলে, অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণীর বন্ধু জীবাণূরা প্রথম শ্রেণীর জীবাণূর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে, তাদের দ্বারা তৈরী টক্সিন খেয়ে ফেলে দেহকে বিষমুক্ত করে রোগমুক্ত রাখে। এদের বাসস্থান হচ্ছে খাদ্যনালী, শ্বাসনালী, ত্বক ইত্যাদি দেহের প্রতিটি স্থানে, যেসব পথ দিয়ে প্রথম শ্রেণীর জীবাণুরা সর্বক্ষণ দেহে প্রবেশ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s