হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার কতিপয় নতুন উপায়।

যে সকল রোগী আমাদের চিকিৎসার অধীনে রয়েছেন তাদের মনে আমাদের চিকিৎসা পদ্ধতি সম্বন্ধে কিছু প্রশ্ন রয়েছে যার ব্যাখ্যা আমরা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত প্রকাশ করে আসছি। রোগীদের যেহেতু চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্বন্ধে পরিষ্কার ধারনা না থাকাই স্বাভাবিক তাই তারা আমাদের চিকিৎসা নিতে এসে অনেকেই হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। আপাত দৃষ্টিতে প্রতিটি রোগীর বেলায় আমাদের চিকিৎসার দ্বারা রোগের আরোগ্য সাধন করতে অনেক বেশী সময়ের প্রয়োজন পড়ে। তাই অন্য সকল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সঙ্গে প্রতিযোগীতায় আমরা জয়ী হতে পারি না। তুলনামূলকভাবে বেশী সময় লাগার কারণেই আমরা আমাদের অধীনস্থ রোগীদের সমর্থন লাভ করতে ব্যর্থ হচ্ছি। প্রতিটি রোগীর দেহে রোগের সুপ্ত কারণগুলোকে নির্মূল করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। এর ফলে যদিও রোগীরা দীর্ঘমেয়াদীভাবে রোগমুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করে থাকেন। কিন্তু প্রতিটি রোগীই আমাদের নিকট চিকিৎসার মেয়াদকে কমিয়ে আনার ব্যাপারে তাদের মনের হতাশা ব্যক্ত করে থাকেন। এর ফলে আমাদের চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা আশানূরুপ ভাবে বৃদ্ধি পায়নি। হোমিওপ্যাথির অনুসারী বিশে^র লক্ষ লক্ষ চিকিৎসক সম্প্রদায় আরোগ্যের সময়কে কমিয়ে আনার জন্য অনেক রকম পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। যার ফলে রোগীরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন ঠিকই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রোগের মূল উৎপাটন ঘটে না, তাই রোগসমূহের প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটে গিয়ে নতুন ধরনের রোগের বিকাশ ঘটে থাকে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ক্রমাগত গবেষণা চালিয়ে আসছিলাম। ইদানিং উন্নত বিশে^ কিছু হোমিওপ্যাথি গবেষক ইমিউনোলজি বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সাইটোকাইন নামক এক ধরনের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রবর্তন করেছেন। এই নতুন ধরনের গবেষণা লব্ধ ওষুধগুলো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করতে সক্ষম হয়নি। কিন্তু উন্নত বিশে^র কয়েকটি দেশে এই জাতীয় ওষুধ দেহের গভীরে বিদ্যমান রোগগুলোকে নির্মূল করার ব্যাপারে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের চাইতে অনেক বেশী ক্রিয়াশীল হওয়ার ক্ষমতা প্রদর্শন করছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা তাদের পাশাপাশি গবেষণা চালিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ মানবদেহে প্রয়োগ করলে দেহের শে^তকণিকা যেসকল জীবাণু ধ্বংসকারী এন্টিবডি তৈরী করে থাকে সেই সকল এন্টিবডিগুলোকে মানব দেহের বাইরে কৃত্রিমভাবে তৈরী করে ওষুধ হিসাবে প্রয়োগ করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। তারা ঐসকল ওষুধ এতোদিন যাবত ইনজেকশনের দ্বারা প্রয়োগ করে আসছিলেন। কিন্তু এর ফলে অনেক বেশীমাত্রায় পাশর্^প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার কারণে একটি কোম্পানী এ্যালোপ্যাথিক ওষুধগুলোকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের মতো মুখে খাওয়ানোর উপযোগী করে তৈরী করেছেন। এর ফলে আশা করা যায় যে, হোমিওপ্যাথিক ওষুধকে দ্রুত ক্রিয়াশীল করার জন্য আলোচ্য নবউদ্ভাবিত ওষুধগুলো একটি শুভ পদক্ষেপ রাখতে সক্ষম হবে।
প্রসংগতঃ আমরা সেরাজেম নামক একটি চিকিৎসা পদ্ধতির বিষয়ে উল্লেখ করতে চাই। মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম একটি উপাদানের নাম হচ্ছে ফার ইনফ্রারেড রশ্মি। এই রশ্মিটি সূর্য রশ্মির মাঝে বিদ্যমান রয়েছে। এর দ্বারা সমগ্র প্রানী জগত সূর্য রশ্মির সাহায্যে প্রকৃতি থেকে পুষ্টিকর উপাদান সৃষ্টি করে থাকে। জাপানে সনা বাথ নামক পদ্ধতিতে এই রশ্মির সাহায্যে শীত প্রধান এলাকায় দেহের পুষ্টি সাধন করা হয়ে আসছে। বর্তমানে ঐ পদ্ধতির অনুসরন করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা জেইড নামক পাথরের সাহায্যে কৃত্রিমভাবে ফার ইনফ্রারেড রশ্মি বা (FIR ) তৈরী করার পদ্ধতি ব্যবহার করে মানবদেহকে অসংখ্য রোগ থেকে মুক্ত করার উপযোগী মেশিন আবিষ্কার করে ফেলেছেন। যার নাম দিয়েছেন তারা “সেরাজেম”। এই মেশিনটি বিশ^ব্যাপি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চিকিৎসা শাস্ত্রে ফার ইনফ্রারেড রশ্মির এই ব্যবহার আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এমন একটি উপাদানের ব্যবহার এযাবত বিশে^ দেখা যায় নি। এই রশ্মি প্রয়োগের ফলে রোগীদের দেহের উত্তাপ বেড়ে যায় এবং বর্জ্য নিঃসরণ প্রক্রিয়ার বৃদ্ধির কারণে রোগীর দেহ বিষমুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে রোগমুক্ত হতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় চিকিৎসাদান কালে দেহে নানাবিধ রোগবৃদ্ধির কারণে কষ্টদায়ক রোগলক্ষণ দেখা দেয়। এই পদ্ধতির পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করে ঐসকল কষ্টকর রোগলক্ষণগুলোকে সহ্য সীমার মধ্যে রাখা সম্ভব হয়। মানবদেহে মিশ্রমায়াজম ঘটিত রোগের চিকিৎসার সময় দেহে বিদ্যমান টিউবারকুলার এবং ক্যান্সার ঘটিত মায়াজমের যৌথ উপস্থিতিকে নির্মূল করার সময় যখন হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বারবার ব্যর্থ হতে থাকে তখন উপরোক্ত রশ্মির দ্বারা চিকিৎসা সমগ্র আরোগ্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে থাকে বলে আমরা পরীক্ষায় দেখতে পেয়েছি। এসম্বন্ধে আরো গবেষণা প্রক্রিয়া চলছে যা হোমিওপ্যাথিকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে।
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s